লালমাইয়ে হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজে পুনর্মিলনী “নীড়ে ফেরা” বর্ণিলভাবে উদযাপন
(নিজস্ব প্রতিবেদক)
নীড়ে ফেরা স্মৃতির টানে, মিলি প্রীতির বন্ধনে’ এ স্লোগানে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী কর্তৃক আয়োজিত চতুর্থ তম পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(২ এপ্রিল) বুধবার হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে সকাল ৮ টায় শুরু হয় উপহার ও কপুন বিতরণ এরপর বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করা হয়। পরে আনন্দ র্যালী শেষ করে সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন। চতুর্থ তম পুনর্মিলনী উদযাপনের এ বর্ণিল আয়োজনের এতে প্রায় ৩ হাজার সাবেক-বর্তমান ছাত্র -ছাত্রী ও শিক্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও পিনাকী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে এবং প্রাক্তন ছাত্র ডিবিসি টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক জুয়েল মজুমদার, প্রাক্তন ছাত্র ও সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ডা: আশিকুর রহমান এর যৌথ প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক ডা: সালেহ আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইলিয়াস কাঞ্চন, প্রধান সমন্বয়ক প্রকৌশলী আবদুল বারী।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী।
অতিথি হিসেবে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন লালমাই থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, রেক্স ফ্যাশন লি: ও কে আলী নিটওয়ার লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক
কোরবান আলী, বাংলাদেশ বেতার প্রধান প্রকৌশলী ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির প্রকাশনা মুনীর আহমেদ, নিবন্ধন এবং অভ্যর্থনা উপকমিটির আহবায়ক মাহবুবুর আলম খোকন,এইচ এমএস গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী শাহজাহান, পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের প্রকাশনা পরিষদের উপদেষ্টা প্রফেসর আবুল খায়ের।
এতে উপস্থিত ছিলেন ও মোটিভেশান স্পিস দেন এনাম মেডিকেল কলেজ প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা: মোতাহার হোসেন জুয়েল, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) জাফর ইকবাল, যুগ্মসচিব (অবসরপ্রাপ্ত)মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, দে এন্ড কোং চট্টগ্রাম হারাধন দে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড.আবদুল মাননান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কামরুন্নাহার পলি,উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদুল্লাহ,অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শামীম ইকবাল,
সাধন মিত্র সিংহ, এ্যাডঃ বেলাল হোসেন,মাসুদ করিম,সাবেক চেয়ারময়ান আমান উল্লাহ আমান,হরিশ্চর চৌরাস্তা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ শাহজাহান,সমাজসেবক মোঃ শাহ আলম,পেরুল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লালমাই প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক রূপসী বাংলা পত্রিকা সাংবাদিক মোঃ জয়নাল আবেদীন জয়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লালমাই থিয়েটারের সভাপতি সাংবাদিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সহ ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগন।
নীড়ে ফেরা পুনমির্লনী অনুষ্ঠানের স্মরণিকা উন্মোচন করা হয় এবং প্রত্যক ব্যাচের ছাত্র – ছাত্রীদের ১ জন করে প্রতিনিধি স্মৃতিচারণ করেন। স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মরহুম মকবুল আহমেদ সহ যে সকল শিক্ষক ও ছাত্র – ছাত্রী মৃত্যু বরণ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক প্রকাশ ও ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়েছে।
প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক ও ছাত্র – ছাত্রীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এছাড়াও র্যাফল ড্র অনুষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণে আকর্ষনীয় পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে।
দুপুরের কাচ্চি বিরিয়ানি,বোরহানি সহ বিকেলের জিলাপি ও নিমকী, চা-কপি,সন্ধ্যায় চটপটি ও কোমল পানীয় নীড়ে ফেরা পুনমির্লনীতে আগত ভোজনরসিকদের তৃপ্তি মিটিয়েছে।
নীড়ে ফেরা পুনমির্লনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব বিকেল ৪ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশবরেণ্য বাউল সম্রাট ফকির শাহবুদ্দিন , আবৃত্তি করেন প্রাক্তন ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগীয় প্রধান ডঃ মোশারফ হোসেন,প্রাক্তন ছাত্র বাউল শিল্পী পরিক্ষিত ইমন,প্রাক্তন ছাত্র বাঁশি বাজিয়ে মাতান এ্যাডঃ ফয়সাল সহ নৃত্য, সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র ছাত্রী বৃন্দ।
নীড়ে ফেরা পুনমিলনী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের পক্ষ থেকে স্কুল এন্ড কলেজের সংস্কারের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীর কোল ঘেঁষে ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে পথচলা শুরু করে ২০২৫ সালেও সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ৭৬ বছরের এই বিদ্যাপীঠ। আপন আলোয় আলোকিত আজ উপজেলায়, জেলায় ও বিশ্ব মাঝে। ১৯৫২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশের মধ্য দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য ও অর্জনের পথচলার শুভ সূচনা হয়। ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা বোর্ডে বাণিজ্য বিভাগে মেধাতালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান দখল করার পর থেকে এ বিদ্যালয়ে সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুলে প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন স্বর্গীয় বাবু মহিম চন্দ্র সাহা। পরবর্তীতে মকবুল আহমেদ বিএসসি, বিটি ১৯৫০ সালে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুলে যে মশাল প্রজ্বলিত করেছেন তা আজও স্ব-মহিমায় দীপ্তিমান।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মরহুম মকবুল স্যারের লেখা বই থেকে জানা যায়, খলিলপুর গ্রামের বাবু ভগবান চন্দ্র সাহা ও বাবু ঈশ্বর চন্দ্র সাহা ৩০ শতাংশ জমি দান করায় এই জমির উপর ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে একটি মাইনর স্কুল স্থাপিত হয় এবং নামকরণ করা হয় হরিশ্চর মধ্য ইংরেজি স্কুল। অতঃপর ১৯৪৯ সালের জানুয়ারি মাসে এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভূমির পরিমাণ ৩.৫১ একর। হরিশ্চর নামটি প্রসিদ্ধ হওয়ার একমাত্র কারণ হরিশ্চর ইউনিয়ন হাই স্কুল। যুগ যুগ ধরে সাফল্যের দ্যুতি ছড়িয়েছে সুদূর মার্কিন মুল্লুকের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) ও হালের ইনটেল কর্পোরেশন পর্যন্ত।
Leave a Reply