লালমাইয়ে টেকসই কৃষি প্রযুক্তির মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত, মরিচে ফলন বৃদ্ধির নতুন দিকনির্দেশনা
মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মরিচের ফলন পার্থক্য কমানোর লক্ষ্যে এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ১৫০ জন কৃষক-কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) সৈয়দপুর ব্লকের দত্তপুর গ্রামে প্রদর্শনী সংলগ্ন মাঠে এ মাঠ দিবসের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালমাই।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান বেগম। সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মোঃ শাহিন।
মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রাসেদ হাসনাত। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা মোঃ ইমরান আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মাওলানা জাকির হোসেন, মোঃ আসলাম মজুমদার এবং মোঃ খোরশেদ আলম লোকমান। এছাড়াও উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক খন্দকার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন, মোঃ জিয়াউল করিম, মোঃ আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
মাঠ দিবসে “ফলন পার্থক্য কমানো (মরিচ)” প্রযুক্তির আওতায় হাইব্রিড ১৭০১ জাতের প্রদর্শনী তুলে ধরা হয়। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মরিচের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের লাভজনকতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
এসময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক ডলোচুনের ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্যেই ডলোচুন ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি মাটির গুণগত মান উন্নয়ন, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
প্রকল্প পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, দেশের কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে হলে কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের বিকল্প নেই। তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ডলোচুন ব্যবহারের পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার কথাও জানান।
বক্তারা বলেন, মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করা গেলে কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করা হয়।